Saturday, August 26, 2017
Friday, August 25, 2017
লেবেলসমূহ:
নিয়েগ,
বাংলাদেশ,
বিজ্ঞপ্তি ২০১৭,
ব্যাংক
বিটি প্রযুক্তির ব্যবহার দেশকে কৃষিতে ব্যাপক সফল্য এনে দিছে
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সরকারের উদার বীজনীতি ॥ কৃষিমন্ত্রী
এআইসিসি নকলা.... কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, দেশের কৃষির সাফল্যে বর্তমান সরকারের উদার বীজনীতির অবদান রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সর্ব প্রথম ২০১৩ সালে কৃষিতে বায়োটেকনোলজি (বিটি) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কৃষির রূপান্তর এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকরা সুফল পাওয়াতেই এটি সম্ভব হয়েছে। বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। তাই আমাদের লক্ষ্য হলো যথাযথ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ উন্নত বীজের একাধিক জাত উদ্ভাবন এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়া।
বুধবার ‘ডেভেলপিং দ্য সিড সেক্টর ইন বাংলাদেশঃ হোয়াট রোল ফর পলিসি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি), ইউএসএআইডি এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (সিড উইং) আশরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং ইউএসএআইডির বাংলাদেশে ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জেইনা সালাহি। বক্তব্য রাখেন এগ্রিকালচারাল পলিসি সাপোর্ট ইউনিটের ডিরেক্টর জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল, ইফপ্রির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ ড. আকতার আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে সফলভাবে ‘বিটি’ জাতের বেগুন উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। ক্ষুদ্র কৃষকরা এতে লাভবান হচ্ছেন। সরকারী গবেষণা কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন শস্যের শতাধিক নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত খরা, বন্যা, লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল ও অধিক ফলনশীল। এখন মাঠ পর্যায়ে এসব জাত ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে গবেষণার মাধ্যমে আরও নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বিটি জাতের ব্যাপারে বিদেশী সহায়তাপুষ্ট কিছু এনজিও অহেতুক বিরোধিতা করছে। সরকার প্রতিটি শস্যের আদি বীজ সংরক্ষণের বিষয়ে তৎপর। বর্তমানে সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে ক্ষুদ্র কৃষকরা কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তির সংস্পর্শে এসে ফলন আরও বৃদ্ধি করতে পারবে। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বীজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির উৎপাদনে আনতে হবে বৈচিত্র্য (ভ্যারাইটি)।
সরকার এসব বিষয়ে কাজ করছে। চলতি বছরেই সংসদে ‘বীজ আইন’ পাস এবং আগামী বছরের শুরুতেই বীজ নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার এসব বিষয়ে কাজ করছে। চলতি বছরেই সংসদে ‘বীজ আইন’ পাস এবং আগামী বছরের শুরুতেই বীজ নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দিনব্যাপী কর্মশালার টেকনিক্যাল সেশনে মোট চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বীজ খাতে প্রযুক্তির আবির্ভাব এবং কৃষকের অভিগম্যতা বিষয়ক একটি প্রবন্ধে ইফপ্রির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ ড. আকতার আহমেদ দাবি করেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৬ দেশের মধ্যে চাষযোগ্য জমিতে কৃষিপ্রযুক্তি গ্রহণ সক্ষমতায় বাংলাদেশ শীর্ষে। বাংলাদেশের ৭৬ শতাংশ ভূমি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের অনুকূল (ফেভরড)।
এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের মাত্র ৩৫ শতাংশ জমি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের অনুকূল। তবুও গত এক দশকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ধান উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। প্রবন্ধে বলা হয়, ধানের উৎপাদন বাড়াতে ধান চাষের ঘনায়ন (ইনটেন্সিফায়েড কাল্টিভেশন) এবং গবেষণা বাড়াতে হবে। গ্রামাঞ্চলের মোট কৃষকের এক তৃতীয়াংশ প্রান্তিক। তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। ফলে কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের পর্যাপ্ত প্রবেশগম্যতা নেই। এছাড়া দেশী জাতের তুলনায় হাইব্রিড জাতের শস্যের দাম প্রায় চার গুণ বেশি। যেমন- এক কেজি স্থানীয় বোরো জাতের ধান বীজের দাম গড়ে ৩৮ টাকা। একই পরিমাণ হাইব্রিড জাতের ধান বীজের দাম ১৬০ টাকা। তাই হাইব্রিড জাতের দাম কৃষকের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আরেকটি প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী নাহার বলেন, বীজ খাতের উন্নয়নে সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর ধান, গম, আলুসহ অন্যান্য শস্য বীজের চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। তিনি উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের মাত্র ৩৫ শতাংশ জমি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের অনুকূল। তবুও গত এক দশকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ধান উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। প্রবন্ধে বলা হয়, ধানের উৎপাদন বাড়াতে ধান চাষের ঘনায়ন (ইনটেন্সিফায়েড কাল্টিভেশন) এবং গবেষণা বাড়াতে হবে। গ্রামাঞ্চলের মোট কৃষকের এক তৃতীয়াংশ প্রান্তিক। তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। ফলে কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের পর্যাপ্ত প্রবেশগম্যতা নেই। এছাড়া দেশী জাতের তুলনায় হাইব্রিড জাতের শস্যের দাম প্রায় চার গুণ বেশি। যেমন- এক কেজি স্থানীয় বোরো জাতের ধান বীজের দাম গড়ে ৩৮ টাকা। একই পরিমাণ হাইব্রিড জাতের ধান বীজের দাম ১৬০ টাকা। তাই হাইব্রিড জাতের দাম কৃষকের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আরেকটি প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী নাহার বলেন, বীজ খাতের উন্নয়নে সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর ধান, গম, আলুসহ অন্যান্য শস্য বীজের চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। তিনি উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
Thursday, August 24, 2017
নকলা উপজেলায় এই বছর আউশ এর বাম্পার ফলন
লেবেলসমূহ:
নকলা-উপজেলায়-এই-বছর-আউশ-এর-বাম্পার-ফলন
বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করণীয়
বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করণীয়
চলতি আমন মওসুমে দেশেল যে সকল অঞ্চলে বন্যা হয়েছে সেসব এলাকায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করনীয়-
১ । বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি বা আংশিক হয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে-
-বন্যার পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানা, পলি, বালি এবং আবর্জনা যত দ্রত সম্ভব পরিষ্কার করতে হবে । বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর ৫-৭ দিন কাদাযুক্ত ধান গাছ পরিষ্কার পানি দিয়ে
প্রয়োজনে স্প্রে মেশিন দিয়ে ধৌত করে দিতে হবে ।
-বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই সার প্রয়োগ করা সঠিক নয় । এতে ধান গাছ পচে যেতে পারে । বন্যার পানি নেমে যাওয়ার ১০ দিন পর ধানের চারায় নতুন পাতা গজানো শুরো হলে
বিঘাপ্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া ও ৮ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে ।
২ । উঁচু জমিতে যেখানে বন্যার পানি ওঠেনি সেখানে রোপণকৃত বাড়ন্ত আমন ধানের গাছ (রোপণের ৩০-৪০ দিন পর ) থেকে ২-৩ টি কুশি রেখে বাকি কুশি সযত্নে শিকড়সহ তুলে নিয়ে সঙ্গে অন্য ক্ষেতে রোপণ করা যেতে পারে ।
৩ । যেসব এলাকায় বন্যায় উঁচু জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বীজতলা করা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে ভাসমান অথবা দাপোগ বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করা যেতে পারে ।
৪ । বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় পর ব্রি উদ্ভাবিত আলোক সংবেদনশীল উফশী জাত যেমন- বিআর-৫, বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৪৬, ব্রি ধান-৫৪ ও নাইজারশাইলসহ স্থানীয় জাতসমূহ রোপন করতে হবে । এছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন জাত ব্রি ধান-৫৭ ও ব্রি ধান-৪৬ ও রোপন করা যেতে পারে । এক্ষেত্রে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বীজতলা করা যাবে ।
-তবে উল্লিখিত জাতসমূহ নাবিতে রোপণের ক্ষেত্রে প্রতি গোছায় চারার সংখ্যা ৪-৫ টি এবং রোপন দূরুত্ব ২০* ১৫ সে.মি ।
-বিলম্বে রোপণের ফলে দ্রুত কুশি উৎপাদনের জন্য সুপারিশকৃত এমওপি,টিএসপি,জিপসাম ও জিংকসহ ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশ) ইউরিয়া জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে । অবশিষ্ট
ইউরিয়া রোপণের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে ।
৫ । যেসব এলাকা পুনরায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম (উঁচু ও মধ্যম উঁচ) সেসব জমিতে অঙ্কুরিত বীজ সরাসরি জমিতে ছিটিয়ে বপন করা যায় । সেক্ষেত্রে রোপন পদ্ধতির চেয়ে ৫-৭ দিন আগাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
৬ । বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া ধান গাছের যাবতীয় পরিচর্যা যেমন- আগাছা সমন, পোকা-মাকড় ও রোগাক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা, সুষম পরিমাণে সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে ।
৭ । বন্যা- পরবর্তীতে চারাগাছ সম্পূণভাবে মাটিতে লেগে যাওয়ার সাথে সাথে ক্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগের প্যাদুভাব দেখা দিতে পারে । সেক্ষেত্রে ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ৬০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিওত স্প্রে করতে হবে।
৮ । বন্যা-পরবতী সময়ে গাছে মাজরা, বাদামি ও সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং,পাতা মোড়ানো এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার বরা যেতে পারে।
৯ । দেশের উত্তরাঞ্চলে আগাম শীত আসার কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর এবং মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে ২০শেপ্টেম্বরের পর আমন ধান রোপণ করা উচিত নয় । এক্ষেত্রে আগাম রবি পসলের আবাদ করা যেতে পারে ।
কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র
লেবেলসমূহ:
বন্যা-পরবর্তী-সময়ে-কৃষক-ভাইদের-করণীয়
Wednesday, August 23, 2017
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নায়করাজ রাজ্জাককে শেষ শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নায়করাজ রাজ্জাককে শেষ শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ ।
এআইসিসি নকলা কে জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার কিছু পরে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে এফডিসিতে নিয়ে আসা হয় নায়করাজ রাজ্জাকের মরদেহ। বৃষ্টি শেষের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, তপ্ত রোদে লাশবাহী শীতল গাড়ি ঢোকে নায়কের কর্মস্থল এফডিসিতে। মূল ফটকের বাইরের সড়কদ্বীপে ততক্ষণে মানুষের জটলা তৈরি হয়। এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের বাইরে লাশবাহী গাড়ি সামনে রেখে শুরু হয় জানাজা। চলচ্চিত্রের দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং অনুজপ্রতিম শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিশাল একটি দল অংশ নেয় নায়করাজ রাজ্জাকের প্রথম জানাজায়। এরপর সারি বেধে তাঁকে একনজর দেখে নেন সবাই। বিহ্বল মুখে আসেন কবরী, কান্নাভেজা চোখে ববিতা, কালো বোরকায় শাবনূর, সাদা পাঞ্জাবি পরে শাকিবসহ উপস্থিত হয়েছিলেন বড় পর্দার সামনে-পেছনের বহু কর্মী। শ্রান্ত, অবসন্ন মুখে বয়স্ক শিল্পীদের সমবেদনা জানাচ্ছিলেন নায়ক আলমগীর। ফোনে রাজ্জাকের মৃত্যুর সংবাদ সবাইকে জানিয়ে, গণমাধ্যমকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে জানাতে ক্লান্ত তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরকে দেখা গেল নতুন ফুলের জায়গা করে দিতে পুরোনো ফুল সরাচ্ছিলেন অস্থায়ী মঞ্চ থেকে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ঠিক করে দিচ্ছিলেন মানুষের সারি।এখান থেকে রাজ্জাকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ মিনারে।
শহীদ মিনারে ভক্তদের ঢল
গতকাল পথঘাট ছিল যানজটে শৃঙ্খলিত। তবু রাজ্জাকের মরদেহ আসার খবরে দুপুর সাড়ে ১২টার আগেই শহীদ মিনার লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কালো ব্যানারের নিচে রাখা হয় সাদা কাপড়ে মোড়া নায়কের মরদেহ। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে চারপাশ। শেষবারের মতো ফুল দিতে এসেছিলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নারীদের একটি দীর্ঘ সারি। ভিড়, ঠেলাঠেলি উপেক্ষা করে তাঁরা একটু একটু করে এগোচ্ছিলেন নায়কের মরদেহের দিকে। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ মাইকে একে একে ডেকে নিচ্ছিলেন সংগঠনগুলোকে। ঘামে ভেজা মানুষগুলোকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় রাজ্জাকের মরদেহের পাশে ছিলেন দুই সন্তান বাপ্পারাজ ও সম্রাট, চিত্রনায়ক জাভেদ ও শাকিব খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। ঘেমেনেয়ে একাকার হাজার ভক্তকে ঠেলে রোজিনা এলেন শহীদ মিনারে। বললেন, ‘আমার জীবনের প্রথম ছবি আয়নায় তাঁকে পেয়েছিলাম নায়ক হিসেবে। অভিনয় করতে গিয়ে হাত-পা কাঁপছিল। সেটা বুঝে তিনি আমাকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, “তোমার অভিনয় ভালো হচ্ছে।”’
শহীদ মিনারে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের পথিকৃৎ রাজ্জাক ভাইয়ের অবদান ভাষায় ব্যক্ত করা যাবে না। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্র নিয়ে ভেবেছেন।’ সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘যে ব্যক্তির ওপর ভর দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র দাঁড়িয়েছিল, তিনি রাজ্জাক। নিজের দক্ষতা, নিজের গুণে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রধান স্থপতি আজ চলে গেলেন।’
আওয়ামী লীগের পক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ দশক তিনি আমাদের চলচ্চিত্রে অবদান রেখেছেন। তাঁর চলে যাওয়ার ক্ষতি অপূরণীয়। রাজ্জাক ছিলেন এই বাংলার উত্তম কুমার।’ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘রাজ্জাকের বিনয়ের প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ বোধ হয় নেই। এত জনপ্রিয় হয়েও সে তার অতীতকে ভোলেনি। সব শ্রেণির মানুষকে সে শ্রদ্ধা করত।’ আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি ওর চেয়ে বয়সে মাত্র এক বছরের বড়। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। সে আমার রক্তকরবী দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল।’ অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেন, ‘তাঁর বাচনভঙ্গি থেকে শুরু করে সবকিছু দারুণ মার্জিত। হিরো হিসেবে এ রকম নিখুঁত একজন মানুষ এখন আর দেখি না। যাওয়ার সময় হলে তো সবাই যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া জায়গাটা আর কখনোই পূরণ হবে না।’
এফডিসি, শহীদ মিনার ও গুলশানে নায়করাজকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও গীতিকার মাজহারুল আনোয়ার, সুব্রত, আলীরাজ, রুবেল, ফেরদৌস, ওমর সানী, সাইমন সাদিক, রোশান, আরিফিন শুভ, বুবলী প্রমুখ। সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবার, সিনেম্যাক্স মুভি পরিবার, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগ, বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা, চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, সিনে স্থির চিত্রগ্রাহক সমিতি, জাসাসসহ বিভিন্ন সংগঠন। বিএনপির পক্ষে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শহীদ মিনারে সংগঠনগুলোর মধ্যে আসে বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, অভিনয় শিল্পী সংঘ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, ওয়ার্কার্স পার্টি, দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ, মুক্তধারা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সুবচন নাট্য সংসদ, ডিরেক্টরস গিল্ড, এনটিভি, দেশ টিভি, প্রজন্ম ’৭১, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিসহ আরও বেশ কিছু সংগঠন।
গতকাল আসরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে নায়কের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ আবারও নিয়ে যাওয়া হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। মেজ ছেলে ফিরলে আজ বুধবার সকাল ১০টায় তাঁকে দাফন করার কথা বনানী কবরস্থানে।
তিন দিনের কর্মবিরতি
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, নায়করাজের প্রয়াণে তিন দিনের কর্মবিরতির কর্মসূচি নিয়েছেন তাঁরা। এই তিন দিন কালো ব্যাজ ধারণ করবেন সবাই, এফডিসি ওড়াবে কালো পতাকা। শোকসভা হবে, আলোচনা হবে নায়করাজের জীবন নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পিতাকে, অভিভাবককে হারিয়েছি। তাঁর অভাব অপূরণীয়।’
Monday, August 21, 2017
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক রাজ রাজ্জাক আর নেই
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক রাজ রাজ্জাক আর নেই
বাংলা চলচ্চিত্রের সফল নায়ক, সফল প্রযোজক, নায়ক রাজ রাজ্জাক আর নেই। তিনি আজ সন্ধা ৬ টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইনতেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । তার বয়স হয়ে ছিল ৭৬ বছর ।
বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৫ টা ২০ মিনিটে হারট অ্যাটাক হওয়া অবস্থায় নায়ক রাজ্জাককে হাসপাতালে আনা হয় ।
বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাক ১৯৬৬ সালে “বেহুলা” ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকাই ছবিতে দর্শকনন্দিত হন কিংবদন্তি এ অভিনেতা ।
আর কিংবদন্তি এ অভিনেতা ২১ আগষ্ট, ২০১৭ সালে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেণ ।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি এডভুকেট আব্দুল হামিদ, প্রধানমুন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিণ শারমীন চৌধুরী ও আরো অনেকেই ।
তার আত্তার মাগফেরাত কামনা করে এক শোক প্রকাশ করেন কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) নকলা ক্লাবের সকল সদস্য বৃন্দু ।
Saturday, August 19, 2017
ড্রাগণ ফলের সমাহার নকলায়
Friday, August 18, 2017
কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র
বাংলাদেশ এ আবাদি জমি কমছে, দেশের প্রতিটি নগরিক সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে । জমিতে চাষাবাদ করার জন্য শ্রমিক কমছে । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্য তম এক সফলতা দেশের ২৫০ টি এআইসিসি ক্লাব স্থাপন করেন । এখানে কৃষক জমিতে বসে কৃষি বিষয়ক যে কোন সমস্যার সমাধান খুবসহজে পেয়ে থাকে । কৃষক নিজে নিজে তার ফসলী জমির সমস্যা কম্পিউটার এ বসে সমাধান নিয়ে যাচ্ছে ।
লেবেলসমূহ:
কৃষি-তথ্য-ও-যোগাযোগ-কেন্দ্র
Subscribe to:
Posts (Atom)





