Thursday, August 24, 2017

বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করণীয়


বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করণীয়



বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করণীয়

চলতি আমন মওসুমে দেশেল যে সকল অঞ্চলে বন্যা হয়েছে সেসব এলাকায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষক ভাইদের করনীয়-
১ । বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি বা আংশিক হয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে-
-বন্যার পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানা, পলি, বালি এবং আবর্জনা যত দ্রত সম্ভব পরিষ্কার করতে হবে । বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর ৫-৭ দিন কাদাযুক্ত ধান গাছ পরিষ্কার পানি দিয়ে
প্রয়োজনে স্প্রে মেশিন দিয়ে ধৌত করে দিতে হবে ।
-বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই সার প্রয়োগ করা সঠিক নয় । এতে ধান গাছ পচে যেতে পারে । বন্যার পানি নেমে যাওয়ার ১০ দিন পর ধানের চারায় নতুন পাতা গজানো শুরো হলে
বিঘাপ্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া ও ৮ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে ।

২ । উঁচু জমিতে যেখানে বন্যার পানি ওঠেনি সেখানে রোপণকৃত বাড়ন্ত আমন ধানের গাছ (রোপণের ৩০-৪০ দিন পর ) থেকে ২-৩ টি কুশি রেখে বাকি কুশি সযত্নে শিকড়সহ তুলে নিয়ে সঙ্গে অন্য ক্ষেতে রোপণ করা যেতে পারে ।

৩ । যেসব এলাকায় বন্যায় উঁচু জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বীজতলা করা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে ভাসমান অথবা দাপোগ বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করা যেতে পারে ।

৪ । বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় পর ব্রি উদ্ভাবিত আলোক সংবেদনশীল উফশী জাত যেমন- বিআর-৫, বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৪৬, ব্রি ধান-৫৪ ও নাইজারশাইলসহ স্থানীয় জাতসমূহ রোপন করতে হবে । এছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন জাত ব্রি ধান-৫৭ ও ব্রি ধান-৪৬ ও রোপন করা যেতে পারে । এক্ষেত্রে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বীজতলা করা যাবে ।
-তবে উল্লিখিত জাতসমূহ নাবিতে রোপণের ক্ষেত্রে প্রতি গোছায় চারার সংখ্যা ৪-৫ টি এবং রোপন দূরুত্ব ২০* ১৫ সে.মি ।
-বিলম্বে রোপণের ফলে দ্রুত কুশি উৎপাদনের জন্য সুপারিশকৃত এমওপি,টিএসপি,জিপসাম ও জিংকসহ ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশ) ইউরিয়া জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে । অবশিষ্ট
ইউরিয়া রোপণের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে ।

৫ । যেসব এলাকা পুনরায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম (উঁচু ও মধ্যম উঁচ) সেসব জমিতে অঙ্কুরিত বীজ সরাসরি জমিতে ছিটিয়ে বপন করা যায় । সেক্ষেত্রে রোপন পদ্ধতির চেয়ে ৫-৭ দিন আগাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

৬ । বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া ধান গাছের যাবতীয় পরিচর্যা যেমন- আগাছা সমন, পোকা-মাকড় ও রোগাক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা, সুষম পরিমাণে সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে ।

৭ । বন্যা- পরবর্তীতে চারাগাছ সম্পূণভাবে মাটিতে লেগে যাওয়ার সাথে সাথে ক্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগের প্যাদুভাব দেখা দিতে পারে । সেক্ষেত্রে ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ৬০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিওত স্প্রে করতে হবে।

৮ । বন্যা-পরবতী সময়ে গাছে মাজরা, বাদামি ও সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং,পাতা মোড়ানো এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার বরা যেতে পারে।

৯ । দেশের উত্তরাঞ্চলে আগাম শীত আসার কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর এবং মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে ২০শেপ্টেম্বরের পর আমন ধান রোপণ করা উচিত নয় । এক্ষেত্রে আগাম রবি পসলের আবাদ করা যেতে পারে ।

কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র


No comments:

Post a Comment